শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
মোঃ রকিব হাসান প্রান্ত, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শেখ পরিবারের নামে থাকা চারটি হলের নাম পরিবর্তনে প্রস্তাবিত আহ্বানে নতুন নামের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানসহ চার সংগ্রামী ব্যক্তিত্বের নাম যুক্ত করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস)।
সোমবার (২৩ জুন) সকালে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম. মাফরুহী সাত্তার বরাবর এ সংক্রান্ত স্বারকলিপি প্রদান করেন বাগছাসের নেতাকর্মীরা।
স্বারকলিপিতে হলের প্রস্তাবিত নামগুলো হলো- ’শহীদ নাফিসা- রিয়া’ হল, ’মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল’ ও শহীদ শ্রাবণ-আলিফ হল, শহীদ ফেলানি খাতুন হল’।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নাম প্রস্তাবনার ব্যাখ্যায় বলা হয়, একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে জিয়াউর রহমান ছিলো এক কিংবদন্তির নাম। জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভল্ট’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই জনযুদ্ধকেই তুলে ধরে যার ঢেউ সবাইকেও ছুঁয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধের কুক্ষিগত ন্যারেটিভ থেকে বের হয়ে সেটিকে দল মতের বাইরে গিয়ে প্রকৃতপক্ষেই গণমানুষের হাতে তুলে দিতে ‘মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল’ নামের প্রস্তাব করেছে তারা।
ফেলানি খাতুনের নামে হলের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে,শহীদ ফেলানির কাঁটাতারে ঝুলে থাকা লাশ আমাদের সম্মিলিত চেতনাকে উৎসারিত করে এবং বাংলাদেশ যে দীর্ঘকাল ব্যাপী ভারতীয় আধিপত্যের মধ্যে এক রিফিউজি জীবনযাপন করে চলেছে, সেই সত্যকেই শুধু তুলে আনে৷ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছি তাতে ভারতীয় আধিপত্যবাদের যে সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি – ফেলানি শেখানে আমাদের জন্য আত্মত্যাগ ও অনুপ্রেরণার নাম৷ তাই শহীদ ফেলানি খাতুনের নামে হলের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
শহীদ নাফিসা-রিয়া হল’ নামের পেছনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট জাবি শিক্ষার্থীদের ডাকে সাড়া দিয়ে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ মিছিলের সম্মুখসারিতে থাকা নাফিসা হোসেন মারওয়াকে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়া ১৯ শে জুলাই, র্যাব ও পুলিশের নির্মমতার স্বীকার হন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম কনিষ্ঠ শহীদ, ছয় বছরের ছোট্ট শিশু রিয়া গোপ।একজন খুনী স্বৈরাচারী হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোমলমতী কিন্তু অসীম সাহসী নাফিসা হোসেন মারওয়া হয়ে ও ছোট্ট শিশু রিয়া গোপ হয়ে থাকবেন আমাদের কাছে সংগ্রামের অপর নাম৷ শহীদ নাফিসা – রিয়া নামে হলের নামকরণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দৃপ্ত প্রতীক হিসেবে জাবিতে তাদের নামে হল প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
শ্রাবণ-আলিফের নামে হলের দাবিতে স্মারকলিপিতে বলা হয়,
৫ আগস্ট জাবি শিক্ষার্থীদের ডাকে সাড়া দিয়ে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’য় সম্মুখসারিতে অবস্থান নেয় শহীদ শ্রাবণ ও শহীদ আলিফ। এই দুই সাহসী যোদ্ধা – স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পরে ৫ আগস্টেই বর্বর হাসিনার পুলিশের গুলিতে শহীদ হন এই দুই মহান বীর। ইনসাফের পক্ষে ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পক্ষে এই মহান আত্মত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে ’শহীদ আলিফ – শ্রাবণ হল’ করার প্রস্তাব দেন তারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, প্রস্তাবিত চারটি হলের নাম একাত্তর এবং চব্বিশকে সমানভাবে ধারণ করার পাশাপাশি মুক্তি এবং সংগ্রামের যে অনবদ্য ঐক্য তাকেই তুলে ধরে। প্রশাসনকে উক্ত নামগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলের নামগুলোকে আনুষ্ঠানিক নামে পরিণত করা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি৷